৪৮ বার অপারেশন শেষে সুস্থ্য জোড়া মাথা নিয়ে জন্মানো রাবেয়া-রোকেয়া!

৪৮ বার অপারেশন শেষে সুস্থ্য জোড়া মাথা নিয়ে জন্মানো রাবেয়া-রোকেয়া!
৪৮ বার অপারেশন শেষে সুস্থ্য জোড়া মাথা নিয়ে জন্মানো রাবেয়া-রোকেয়া!

তাসলিমা নুসরাতঃ৪৮ বার অস্ত্রোপচার; অবশেষে বাড়ি ফিরছে  জোড়ামাথার রাবেয়া - রকেয়া!
       
সফল চিকিৎসা শেষে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে রাবেয়া-রোকেয়ার গৃহে প্রত্যাবর্তন অনুষ্ঠানে রোববার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


জোড়া মাথার জমজ বোন রাবেয়া ও রোকেয়াকে সফল অস্ত্রপচারের মাধ্যমে পৃথক করে তাদের সুস্থ শরীরে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াকে মুজিববর্ষে বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে রাবেয়া-রোকেয়া বাড়ি ফিরে যাবে, তাদের মা-বাবার কোলে হেসে খেলে বেড়াবে এটা সত্যি খুব বড় পাওয়া। যেখানে আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছি, ঠিক এই সময়ে এতো বড় একটা সফল অস্ত্রোপচার করা এবং সফলতা অর্জন করা এটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বিরাট অর্জন।


তিনি বলেন, মুজিববর্ষে জোড়া মাথা থেকে মুক্তি পাওয়া রাবেয়া-রোকেয়া’র শুভ গৃহ প্রত্যাবর্তন সকলের জন্য আনন্দের এবং গর্বের।

এই মার্চ মাসে বাঙালির ইতিহাসে অনেক কিছু ঘটেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়, ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ১৯৭১ এর ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।

প্রধানমন্ত্রী যমজ শিশুদের জিজ্ঞেস করেন তারা কেমন আছে। উত্তরে বাচ্চাদের একজন জানায়, সে ভালো আছে এবং প্রধানমন্ত্রীকে কেমন আছেন জিজ্ঞেস করায় প্রধানমন্ত্রী জবাব দেন তিনিও ভালো আছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ছোট বোন শেখ রেহানা তাকে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত খবর দেখিয়ে যমজ শিশুদের সম্পর্কে অবহিত করার পরে তিনি সংযুক্ত শিশুদের চিকিৎসার উদ্যোগ নেন। রাবেয়া-রোকেয়ার মত যমজকে পৃথক করার মতো এক বড় অপারেশন বাংলাদেশে করার কারণ হলো, এখানকার চিকিৎসক এবং টেকশিয়ানদের একটা অভিজ্ঞতা হবে। ৪৮টি অপারেশন এবং ৩৬ ঘণ্টা ধরে অপারেশন করা, এটা বিরাট ব্যাপার। হাঙ্গেরি থেকে আসা চিকিৎসকদের দলটি এখানে দীর্ঘ দিন অবস্থান করে অপারেশনটা করেছে। আর সব থেকে ভাল লেগেছে এরা প্রত্যেকেই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে।

তিনি বলেন, রাবেয়া এবং রোকেয়া জোড়া মাথা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘ক্রেনিয় পেগাজ’। এ ধরনের ঘটনা মাঝে মাঝে দেখা গেলেও আমাদের দেশে এটি পৃথক করার ঘটনা সম্পূর্ণ নতুন।

২০১৯ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক মাইলফলক। এ দিনেই সিএমএইচ ঢাকায় জোড়া মাথা পৃথকীকরণের জটিল অপারেশনটি শুরু হয়। হাঙ্গেরি সরকারের সহযোগিতায় ‘একশন ফর ডিফেন্সলেস পিপল ফাউন্ডেশন’ এর অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাঙ্গেরিতে ছোট-বড় ৪৮টি অপারেশন সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে শিশু দু’টিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এই অপারেশনের সবচেয়ে জটিল অংশ যমজ-মস্তিষ্ক আলাদাকরণের কাজটি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, ঢাকায় সম্পন্ন করা হয়। এ ধরনের অপারেশন সারা বিশ্বেই বিরল এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় প্রথম। অপারেশন পরর্বতী সাফল্যও বিশ্বে খুব বেশি নেই।

২০১৬ সালের ১৬ জুলাই রাবেয়া এবং রোকেয়া এই যমজ দুই বোন সংযুক্ত মাথা নিয়ে পাবনার স্কুল শিক্ষক দম্পতি রফিকুল ইসলাম এবং তাসলিমা খাতুনের ঘরে জন্মগ্রহণ করে।