একুশে বইমেলা ভার্স্যুয়াল হতে পারে

একুশে বইমেলা ভার্স্যুয়াল হতে পারে

ভাষা আন্দোলনের মাসের শুরু থেকেই বাংলা একাডেমি চত্বরে মাসব্যাপী বইমেলার আয়োজন হয়। নিয়ম অনুযায়ী দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বইমেলার উদ্বোধন করে থাকেন। এবার এর ব্যতিক্রম ঘটতে পারে। জানা গেছে,  বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈঠকে বসেছিল মেলা কর্তৃপক্ষ। বৈঠকে মেলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শুক্রবার রাতে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতির কারনে, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে মেলা আয়োজন স্থগিতের চিন্তাভাবনা করছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর বইমেলা শুরু করার তারিখ ঘোষণা করা হবে। এসময় স্টল বসিয়ে মেলা আয়োজন করার জন্য উপযুক্ত সময় মনে করছি না। যদি দেখি, জানুয়ারি মাসে সময় ভালো যাচ্ছে, তাহলে ফেব্রুয়ারি মাসেই শুরু করবো। তবে এখন অবস্থা ভেবে  ১লা ফেব্রুয়ারির উদ্বোধনী তারিখ স্থগিত করলাম। তবে মেলা হবে। ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে ভার্চ্যুয়াল মেলার আয়োজন হতে পারে। শুধু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত তারিখে মেলা শুরু হবে না।

৭ ডিসেম্বর ছিল স্টল বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করার শেষ সময়। প্রকাশনার সঙ্গে জড়িত দুই সমিতি ‘বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি’ ও ‘বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি’র বেশির ভাগ প্রকাশনাই স্টল বা প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেননি। যোগাযোগ করা হলে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা আবেদনের সময় বাড়ানো, স্টল বা প্যাভিলিয়নের ভাড়া কমানো এবং প্রণোদনা চেয়েছিলাম সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর কাছে। তিনি সম্মতিও জানিয়েছিলেন। পরে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।’

১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে  জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সে উপলক্ষে কয়েকজন প্রকাশক একাডেমির ভেতরে পূর্ব দিকের দেয়াল ঘেঁষে বই সাজিয়ে বসেছিলেন। তখন প্রথম বাংলা একাডেমির বিক্রয়কেন্দ্রের বাইরে অন্য প্রকাশকদের বই বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।

১৯৮৩ সালে বাংলা একাডেমিতে প্রথম ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র আয়োজন করে। শেষ পর্যন্ত বইমেলা করা সম্ভব হয়নি। ১৯৮৪ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলার সূচনা হয়। বাংলা একাডেমির তথ্যানুযায়ী চলতি বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ৮২ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। নতুন বই প্রকাশিত হয়েছিল ৪ হাজার ৯১৯টি। বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছিল ৪১টি নতুন বই।